দু'জনের ভালো সম্পর্কের
একান্তে ভালো ব্যাবহার থাকে।
পারস্পরিক আচরণ আর ব্যাবহার
দিয়ে সম্পর্কের ভালো খারাপ
বিবেচনা করলে আমার আর মঞ্জিরার
সম্পর্ক ভীষণ রকম খারাপ। পাশাপাশি ফ্লাট, তারচেয়ে বড়
কথা আমরা পরস্পর খালাতো ভাই
বোন বিধায় ওকে এড়ানোর
কোনো উপায় নেই। ওর ডাক নাম
মীরা। কিন্তু ছোটখালা যে কোন
আক্কেলে ভালো নাম মঞ্জিরা সিদ্দিকী রেখেছেন
কে জানে!
আমি অবশ্য
মঞ্জিরা বা মীরা কোনো নামেই
ডাকিনা ওকে। ডাকি কেবল
মজিলা বলে। আর আমার দেয়া ওর পুরোনাম মজিলা ফায়ারফক্স!
নরমালি মজিলা ডাক শুনলেই খেপে,
আরো বেশি খেপাতে ফক্স বলেও
ডাকা লাগে। আর তখন ওর চেহারায়
ফায়ার দেখা দেয়!
ভাগ্যিস দুই বছরের বড় আমি ওর। নাহলে সারাদিনের
কান্ডগুলো মুখের কথাতেই আবদ্ধ
না থেকে হয়তো হাতাহাতিতেও
গড়াতো। ঈদের নতুন কাপড়
আমারগুলো ও ঠিকই
দেখে যাবে ঈদের আগেই, অথচ আমাকে ওরগুলো দেখাবেই না!
মা মুরগীর গোস্ত রাঁধলে সেটার
মাথা-কলিজা-রান সব ওর চাই!
নিজের বাসারগুলো তো আছেই! আমার
কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড ওর
জানা। আর ওর কম্পিউটারের পাসোয়ার্ড
জানতে চাইলে বুড়ো আঙ্গুলে কচু
দেখিয়ে পালাবে! কেনোই
বা তাহলে হবেনা ঝগড়া?
যখন তখন মুখ
ভেংচাতে ভেংচাতে মুখটাই বাঁকা করে ফেললো তবুও আমাএক
দেখলে মুখ না ভেংচানো পর্যন্ত ওর
শান্তি নেই। বড় বলে সহ্য
করে যাই। আগে হাতের
কাছে পেলেই দিতাম মাইর!
ইদানীং হঠাৎ করে কেমন যেনো বড় হয়ে গেছে ও। মার দিতে নিজেরই
কেমন লজ্জা করে। তবুও হাতের
কাছে পেলে তো আর ছাড়া যায়না?
আগে হাত দিয়ে মারতাম এখন স্কেল
দিয়ে শুরু করে দেই। আর ওর ইয়া বড়
বড় নখ দিয়ে আমার গালে-মুখের ছাল তোলে ও!
তবে এতো কিছু যাই হোক আমার সব
কথা বলি ওকে। আর ও ওর
কথাগুলো বলে ফেলে এক নিশ্বাসে।
একদিন কথায় কথায় বলে ফেললাম
কলেজের এক মেয়ের কথা। নাম অন্তি, ভীষন সুন্দর। এতোদিন
চিনতাম না।
কলেজে বোরকা পরে আসতো শুরু
থেকে। দু'তিনদিন
থেকে বোরকা ছাড়া আসছে। আমার
চোখে পড়লো এই আজ! এতো সুন্দর হয় কি করে মানুষ?
পরদিন বাসায় কুরিয়ার এলো। আব্বুর
ইচ্ছায় লন্ডনের একটা কলেজে 'এ-
লেভেলের' আবেদন করেছিলাম।
ওটা হয়ে গেছে! বসন্ত মৌসুমে ওদের
কলেজে আমার সেমিস্টার শুরু হবে। মাসখানেকের মধ্যেই তাই আমার
ঠিকানা হবে লন্ডন! বাসায়
মিষ্টির ভীড় চাপিয়েছেন বাবা।
আশেপাশের সবার বাসায়
বিলিয়ে ফিরে দেখি তখনো মজিলার
দেখা নেই। সেদিনের পর থেকে কেমন
দূরে দূরে থাকতে লাগলো ও। মন
খারাপের কথা বললে বলে, 'কই
নাতো!'
মাস
পেড়িয়ে গেলো দেখতে দেখতেই। যাবার পালা। এক সপ্তাহ আগেই
ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছি। অথচ
যাওয়ার দু'দিন আগে মজিলা বললো ও
নাকি আবার ব্যাগ গুছিয়ে দেবে!
দিক! কে আর করে ঝগড়া যাবার
আগবেলাতে? আজ বিকালে ঢাকায় যাবো। সেখান
থেকে কাল সকালে লন্ডন।
হয়তো আগামী দু'চার বছর
দেশে ফেরা হবেনা আর। শেষবারের
অতো সবকিছু ঠিক
আছে কীনা দেখে নিচ্ছিলাম। বড় স্যুটকেসের একদম
ওপরে একটা প্যাকেট! কই
এটাতো ছিলোনা এখানে? খুললাম,
ভেতরে একটা চিঠি আর
আরো একটা প্যাকেট।
চিঠিটা মজিলার লেখা। 'চলেই যদি যাবে এতোদূর তাহলে অমন
করে লাল
চুড়ি পড়িয়ে দিয়েছিলে কেনো হাতে?
কেনোই বা অন্য
মেয়েকে দেখে পাগল হও?
এতোদূরে যেয়ে কি আর আমাকে মনে রাখবে?
রাখবেনা জানি। তাই তোমার
দেয়া জিনিষ তোমাকেই
ফিরিয়ে দিলাম।- মীরা' ভেতরের
প্যাকেটটা খুলে দেখি সত্যি একগাছি চুড়ি! গত বৈশাখের প্রথম দিনে কি দেবো কি দেবো ভেবে পকেটে টাকা কম
ছিলো বলে সস্তার এই কাঁচের
চুড়িগুলো কিনে পড়িয়ে দিয়েছিলাম
ওকে। কে জানতো সস্তায়
কেনা চুড়িগুলো ও ভালোবাসার
প্রতীক ভাববে? তবুও
ভালো চিঠিটা পড়ছি এদেশে বসে,
ওর ঠিক পাশের বাসায় বসে। সময়
আছে এখনো ঢের! অন্তত
ভালোবাসি বলতে এতো সময়তো লাগেনা!
চিঠি ফেলে চুড়িগুলো হাতে নিয়ে দৌড়ালাম মীরার খোঁজে। আজ আবার ওর
হাতে পড়িয়ে দিয়ে বলবো,
'ভালোবাসি।
একান্তে ভালো ব্যাবহার থাকে।
পারস্পরিক আচরণ আর ব্যাবহার
দিয়ে সম্পর্কের ভালো খারাপ
বিবেচনা করলে আমার আর মঞ্জিরার
সম্পর্ক ভীষণ রকম খারাপ। পাশাপাশি ফ্লাট, তারচেয়ে বড়
কথা আমরা পরস্পর খালাতো ভাই
বোন বিধায় ওকে এড়ানোর
কোনো উপায় নেই। ওর ডাক নাম
মীরা। কিন্তু ছোটখালা যে কোন
আক্কেলে ভালো নাম মঞ্জিরা সিদ্দিকী রেখেছেন
কে জানে!
আমি অবশ্য
মঞ্জিরা বা মীরা কোনো নামেই
ডাকিনা ওকে। ডাকি কেবল
মজিলা বলে। আর আমার দেয়া ওর পুরোনাম মজিলা ফায়ারফক্স!
নরমালি মজিলা ডাক শুনলেই খেপে,
আরো বেশি খেপাতে ফক্স বলেও
ডাকা লাগে। আর তখন ওর চেহারায়
ফায়ার দেখা দেয়!
ভাগ্যিস দুই বছরের বড় আমি ওর। নাহলে সারাদিনের
কান্ডগুলো মুখের কথাতেই আবদ্ধ
না থেকে হয়তো হাতাহাতিতেও
গড়াতো। ঈদের নতুন কাপড়
আমারগুলো ও ঠিকই
দেখে যাবে ঈদের আগেই, অথচ আমাকে ওরগুলো দেখাবেই না!
মা মুরগীর গোস্ত রাঁধলে সেটার
মাথা-কলিজা-রান সব ওর চাই!
নিজের বাসারগুলো তো আছেই! আমার
কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড ওর
জানা। আর ওর কম্পিউটারের পাসোয়ার্ড
জানতে চাইলে বুড়ো আঙ্গুলে কচু
দেখিয়ে পালাবে! কেনোই
বা তাহলে হবেনা ঝগড়া?
যখন তখন মুখ
ভেংচাতে ভেংচাতে মুখটাই বাঁকা করে ফেললো তবুও আমাএক
দেখলে মুখ না ভেংচানো পর্যন্ত ওর
শান্তি নেই। বড় বলে সহ্য
করে যাই। আগে হাতের
কাছে পেলেই দিতাম মাইর!
ইদানীং হঠাৎ করে কেমন যেনো বড় হয়ে গেছে ও। মার দিতে নিজেরই
কেমন লজ্জা করে। তবুও হাতের
কাছে পেলে তো আর ছাড়া যায়না?
আগে হাত দিয়ে মারতাম এখন স্কেল
দিয়ে শুরু করে দেই। আর ওর ইয়া বড়
বড় নখ দিয়ে আমার গালে-মুখের ছাল তোলে ও!
তবে এতো কিছু যাই হোক আমার সব
কথা বলি ওকে। আর ও ওর
কথাগুলো বলে ফেলে এক নিশ্বাসে।
একদিন কথায় কথায় বলে ফেললাম
কলেজের এক মেয়ের কথা। নাম অন্তি, ভীষন সুন্দর। এতোদিন
চিনতাম না।
কলেজে বোরকা পরে আসতো শুরু
থেকে। দু'তিনদিন
থেকে বোরকা ছাড়া আসছে। আমার
চোখে পড়লো এই আজ! এতো সুন্দর হয় কি করে মানুষ?
পরদিন বাসায় কুরিয়ার এলো। আব্বুর
ইচ্ছায় লন্ডনের একটা কলেজে 'এ-
লেভেলের' আবেদন করেছিলাম।
ওটা হয়ে গেছে! বসন্ত মৌসুমে ওদের
কলেজে আমার সেমিস্টার শুরু হবে। মাসখানেকের মধ্যেই তাই আমার
ঠিকানা হবে লন্ডন! বাসায়
মিষ্টির ভীড় চাপিয়েছেন বাবা।
আশেপাশের সবার বাসায়
বিলিয়ে ফিরে দেখি তখনো মজিলার
দেখা নেই। সেদিনের পর থেকে কেমন
দূরে দূরে থাকতে লাগলো ও। মন
খারাপের কথা বললে বলে, 'কই
নাতো!'
মাস
পেড়িয়ে গেলো দেখতে দেখতেই। যাবার পালা। এক সপ্তাহ আগেই
ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছি। অথচ
যাওয়ার দু'দিন আগে মজিলা বললো ও
নাকি আবার ব্যাগ গুছিয়ে দেবে!
দিক! কে আর করে ঝগড়া যাবার
আগবেলাতে? আজ বিকালে ঢাকায় যাবো। সেখান
থেকে কাল সকালে লন্ডন।
হয়তো আগামী দু'চার বছর
দেশে ফেরা হবেনা আর। শেষবারের
অতো সবকিছু ঠিক
আছে কীনা দেখে নিচ্ছিলাম। বড় স্যুটকেসের একদম
ওপরে একটা প্যাকেট! কই
এটাতো ছিলোনা এখানে? খুললাম,
ভেতরে একটা চিঠি আর
আরো একটা প্যাকেট।
চিঠিটা মজিলার লেখা। 'চলেই যদি যাবে এতোদূর তাহলে অমন
করে লাল
চুড়ি পড়িয়ে দিয়েছিলে কেনো হাতে?
কেনোই বা অন্য
মেয়েকে দেখে পাগল হও?
এতোদূরে যেয়ে কি আর আমাকে মনে রাখবে?
রাখবেনা জানি। তাই তোমার
দেয়া জিনিষ তোমাকেই
ফিরিয়ে দিলাম।- মীরা' ভেতরের
প্যাকেটটা খুলে দেখি সত্যি একগাছি চুড়ি! গত বৈশাখের প্রথম দিনে কি দেবো কি দেবো ভেবে পকেটে টাকা কম
ছিলো বলে সস্তার এই কাঁচের
চুড়িগুলো কিনে পড়িয়ে দিয়েছিলাম
ওকে। কে জানতো সস্তায়
কেনা চুড়িগুলো ও ভালোবাসার
প্রতীক ভাববে? তবুও
ভালো চিঠিটা পড়ছি এদেশে বসে,
ওর ঠিক পাশের বাসায় বসে। সময়
আছে এখনো ঢের! অন্তত
ভালোবাসি বলতে এতো সময়তো লাগেনা!
চিঠি ফেলে চুড়িগুলো হাতে নিয়ে দৌড়ালাম মীরার খোঁজে। আজ আবার ওর
হাতে পড়িয়ে দিয়ে বলবো,
'ভালোবাসি।
$$$$$$$$$................nice. ............... . .,$$$$$$$$$
উত্তরমুছুনhttp://it-bari.com/what-are-in-our-complete-seo-bangla-tutorial/
উত্তরমুছুনwww.valobasargolpo2.xyz
উত্তরমুছুনবাহ্! দারণ তো
উত্তরমুছুনpremer golpoটি